উৎসবে ধর্মভেদ চান না, বিরোধী সুরেই বললেন বিজেপির মন্ত্রী
মুম্বই, ৯ সেপ্টেম্বর: বিরোধীরা দীর্ঘ সময় ধরেই বলে আসছেন। এবার বিরোধীদের সুরেই তাল মেলালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মহারাষ্ট্রে গরবা-ডান্ডিয়ার অনুষ্ঠানে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দাবি করেছিল, মুসলিমদের প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। এই নিয়েই কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে জানালেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই দাবি অসংবিধানিক। উৎসবে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যোগ দেওয়া ভুল কিছু নয়। তিনি সংবিধানের প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশের স্ত্রীও এই নিয়ে মুখ খুলেছেন। অমৃতা ফড়নবীশ মনে করেন, উৎসব সকলের, এখানে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিষিদ্ধ করা যায় না।
বিজেপির নেতৃত্বাধান এনডিএ সরকারের প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে। তিনি বলেন, “মুসলিমদের হিন্দুদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া উচিত নয়, একথা ঠিক নয়। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের উচিত দেশের হয়ে একযোগে কাজ করা। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সব ধর্ম একসঙ্গে মিলে মিশে কাজ করে। এখানে সব ধর্মের মানুষেরই উচিত, অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া।এর বিরুদ্ধে কোনও অবস্থান নেওয়া হলে আমরা তাঁর বিরোধিতা করি।”
বাংলায় সদ্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই একাধিক বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দুর্গাপুজোয় থিম নিষিদ্ধ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। আমিষ নিয়েও একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী কলকাতায় এসে দাবি করেছিলেন, পুজোয় আমিষ খাওয়া মানুষ আসলে ভন্ড। পুজো মন্ডপের বাইরে আমিষ খাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় তৈরি হয়। বিজেপি নেতারাও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর সঙ্গে একমত হননি। এই রাজ্যে এর আগে কংগ্রেস, সিপিএম বা তৃণমূল আমলে ধর্ম নিয়ে এমন সংকটজনক অবস্থায় পড়তে হয়নি বাঙালিকে। এবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালের মন্তব্যে এই রাজ্যের বিরোধীদের হাতিয়ার হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে ভিত্তি করে পাল্টা যুক্তিও তৈরি করতে পারবেন বিরোধীরা।
