মানিকচকে বন্যা রুখতে ফুলহারে জল নামানোর চেষ্টা প্রশাসনের
সংবাদদাতা, মালদহ: মালদহ জেলার মানিকচক ব্লকের ভুতনী চর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে ভুতনীর একাধিক জায়গায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্রমাগত জল বাড়তে থাকায় ভুতনীর উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুরসহ এক বিশাল এলাকা এখন পুরোপুরি জলমগ্ন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং জমা জল দ্রুত বের করে দিতে অবশেষে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভুতনীর দক্ষিণ চণ্ডীপুর এলাকায় একটি নির্দিষ্ট অংশে বাঁধ কেটে ফুলহার নদীতে জল নামানোর প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালেই এলাকা পরিদর্শনে যান মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তিনি বন্যা কবলিত দক্ষিণ চণ্ডীপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি ঘুরে দেখেন এবং দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বিধায়ক জানান, গঙ্গার জল বিপদসীমার ওপরে থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে জল নামতে পারছে না। উল্টে ভাঙা বাঁধ দিয়ে নতুন করে গঙ্গার জল হু-হু করে জনবসতিতে ঢুকছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে ধীরে ধীরে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেই ও ভুতনীকে পুরোপুরি ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে প্রশাসনিক স্তরে জল বের করার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। তাই বৈজ্ঞানিক পরিমাপ ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচারে দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ কেটে ফুলহর নদীতে জল নামানোর কাজ হচ্ছে। বর্তমানে ভুতনীর পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক গ্রামে যোগাযো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। মাইলের পর মাইল চাষের জমি এখন জলের তলায়, যার ফলে চলতি মরশুমের বিপুল ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের। ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান জল জমে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ।
পাকা ও কাঁচা রাস্তা জলমগ্ন হওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেছে। ভুতনী দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ডিঙি ও কান্ট্রি বোট। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় বহু এলাকা এখন আক্ষরিক অর্থেই দ্বীপের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। দুর্গতদের উঁচুর জায়গায় রাখা, আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল ও শুকনো খাবার পৌঁছানোর কাজ চলছে। মেডিকেল টিম তৈরি রেখে দুর্গত এলাকায় ওষুধ পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, দক্ষিণ চণ্ডীপুরে বাঁধ কেটে ফুলহার নদীতে জল বের করার এই মরিয়া প্রচেষ্টা সফল হলে ভুতনীর প্লাবিত এলাকাগুলি থেকে দ্রুত জল নামতে শুরু করবে। এতে অন্তত হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা কিছুটা হলেও লাঘব হবে এবং নতুন করে অন্যান্য এলাকায় জল ছড়িয়ে পড়া আটকানো সম্ভব হবে। তবে নদীর জলস্তর ও আবহাওয়া যদি অনুকূলে না থাকে, তবে এই কাজ বাস্তবায়নে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
