আসানসোলের বিজেপি নেত্রীর নাম বাদ, দলের অন্দরে তীব্র কোন্দল
সংবাদদাতা,আসানসোল: সংগঠনের রদবদলকে কেন্দ্র করে চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল ভারতীয় জনতা পার্টির অন্দরে। জামুড়িয়া মণ্ডল-১-এর মহিলা মোর্চার নেত্রী স্বর্ণ বাউড়ীর নাম সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল আসানসোলের জেলা পার্টি অফিসের সামনে। সোমবার আসানসোলে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি সংগঠিত করেন ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘ সময় ধরে চলে বিক্ষোভ ও স্লোগান,পাল্টা স্লোগান, যা নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, জামুড়িয়া মণ্ডল-১-এর মহিলা মোর্চার সভাপতি হিসেবে স্বর্ণ বাউড়ী এলাকায় অত্যন্ত সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং সংগঠন তৈরিতে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তবে সম্প্রতি ঘোষিত মণ্ডল কমিটির নতুন তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়তেই ফুঁসে ওঠেন দলীয় কর্মীদের একাংশ। অভিযোগ উঠে আসে, দলীয় কোনো নিয়ম না মেনে এবং যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে পদচ্যুত করা হয়েছে। বিক্ষোভকারী কর্মী ও সমর্থকদের স্পষ্ট অভিযোগ, জামুড়িয়া মণ্ডল-১-এর বিজেপির মণ্ডল সভাপতির ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং চক্রান্তের কারণেই স্বর্ণ বাউড়ীর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে বিজেপি করে আসছেন, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে নিজেদের অনুগামীদের বসানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই স্বজনপোষণ এবং চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না বলেই হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষুব্ধরা। সোমবার সকালে আসানসোলের জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে বিশাল সংখ্যায় মহিলা মোর্চার কর্মী ও সমর্থকরা জমায়েত হন। তাঁরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। জেলা অফিসের মূল ফটকের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভের জেরে কার্যালয় চত্বরে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বিজেপির জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা জেলা সভাপতি ও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং পুরো বিষয়টি বিস্তারিত জানান। স্বর্ণ বাউড়ীকে পুনরায় তাঁর পদে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার এবং মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। ক্ষুব্ধ কর্মীদের শান্ত করে তাঁদের সমস্ত অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। দলীয় সূত্র মারফত জানানো হয়েছে, জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। দলীয় কোন্দল মেটাতে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যার সমাধান বের করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন করে সামনে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। বিরোধীরা ইতোমধ্যেই একে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও গোষ্ঠী কোন্দল বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে।
