বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

নেপালে এখনও নিখোঁজ বহু ভারতীয়, ত্রাণ নিয়ে পাশে ভারত

03 September, 2026 5:42 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

কাঠমাণ্ডু: ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর একদিকে যেমন মৃত ও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের কাছে খাবার, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও জোরদার হয়েছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধানেও নেপাল সরকারের সমন্বয়ে কাজ করছে ভারত। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর এখনও নদী ও দুর্গম এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা কর্মীদের উদ্ধারে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৩ সেপ্টেম্বরের নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী ভারত, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল নেপালি সেনার সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।ভারতীয় সুড়ঙ্গ-উদ্ধার দল চিলিম এলাকার সুড়ঙ্গে প্রবেশের পথ তৈরি করেছে এবং লাংটাং এলাকায় প্রায় ১৮৫ মিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ধ্বংসস্তূপ, রাস্তা ও সেতু ভেঙে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৬৬ জন ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের একটি ১৯ সদস্যের ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুতে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ করছে। এতে অজ্ঞাতপরিচয় মৃতদেহ শনাক্ত করা এবং নিখোঁজ পরিবারের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। শুধু উদ্ধার নয়, বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেও সক্রিয় ভারত। ভারত থেকে নেপালে পাঠানো হয়েছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, অস্থায়ী আশ্রয়ের উপকরণ, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, সোলার ল্যাম্প এবং ওষুধ। সাম্প্রতিক একটি ভারতীয় ত্রাণবাহী বিমান প্রায় ১০ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি আরও প্রায় ৫.৫ টন চিকিৎসা সামগ্রী, যার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। বন্যাকবলিত এলাকায় তৈরি হয়েছে একাধিক রিলিফ ক্যাম্প। সেখানে খাবার, বিশুদ্ধ জল, চিকিৎসা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকায় পৌঁছনো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বহু রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোথাও হেলিকপ্টার, কোথাও অস্থায়ী সেতু তৈরি করে উদ্ধার করা হচ্ছে। ক্যাম্পগুলিতে রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিচ্ছন্নতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই বিপর্যয়ে ভারত-নেপাল মৈত্রীর সম্পর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংকটের সময়ে উদ্ধারকারী দল, প্রযুক্তিগত সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ পাঠিয়ে ভারত যে পাশে দাঁড়িয়েছে, নেপাল সরকারও তার প্রশংসা করেছে। নেপালের সরকারি বিবৃতিতেও ভারতীয় সুড়ঙ্গ–উদ্ধার ও ফরেনসিক দলের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজের গতি নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবিতদের সন্ধানের সম্ভাবনা ক্রমশ কমছে, কিন্তু সুড়ঙ্গগুলিতে বেঁচে থাকার মতো জায়গা থাকার সম্ভাবনা থাকায় সেখানে অভিযান এখনও থামানো হয়নি। নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান, উদ্ধার, মৃতদেহ শনাক্তকরণ এবং ত্রাণ—চারটি ক্ষেত্রেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik