বেসরকারি সংস্থায় যোগ দিলেন অভিনন্দন
পানাজি: ভারতীয় বায়ুসেনা থেকে পদত্যাগ করলেন বীর চক্রে সম্মানিত ফাইটার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান। জানা গেছে, গোয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা FLY91–এ পাইলট হিসেবে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি।
সালটা ২০১৯। ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের ৪০ জন জওয়ান শহিদ হন। তার জবাব দিতে প্রস্তুত হয় ভারতীয় বায়ুসেনা। হামলার ঠিক ১২ দিনের মাথায় পাকিস্তানের বালাকোটে ঢুকে জইশ জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে গুঁড়িয়ে দেয় বায়ুসেনা। এর মধ্যেই ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণরেখার দিকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়। ওই দলটিকে বাধা দেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে দ্রুত আকাশে ওড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারতকে আক্রমণ করতে আসা একটি এফ ১৬ বিমানকে তাড়া করেন অভিনন্দন। ধ্বংসও করেন সেটিকে। তবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় অভিনন্দনের বিমানটি। বিমান থেকে ঝাঁপ দেন তিনি। গিয়ে পড়েন পাকিস্তানের ৭–৮ কিলোমিটার ভেতরে। গুরুতর আহত অবস্থায় পাক সেনার হাতে বন্দি হন। রক্তাক্ত ও চোখবাঁধা অবস্থায় অভিনন্দনের ছবি ছড়িয়ে পড়ে দেশের আনাচে কানাচে। তাঁর জন্য উদ্বিঘ্ন হয়ে পড়েন মানুষ। নানা ভাবে চেষ্টা ও অত্যাচার সত্বেও পাকিস্তানকে ভারতীয় সেনার একটি গোপন তথ্যও দেননি অভিনন্দন। দুই দেশের প্রবল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর প্রায় আড়াই দিন বন্দি রেখে অভিনন্দনকে মুক্তি দেয় ইসলামাবাদ। এরপর তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শ্রীনগরে ৫১ নং স্কোয়াড্রন থেকে অন্যত্র সরানো হয় গ্রুপ ক্যাপ্টেন অভিনন্দনকে। বেশ কিছু প্রশাসনিক দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল তঁাকে।
বায়ুসেনায় ফ্লাইং অফিসার হিসেবে ২০০৪ সালের ১৯ জুন কাজে যোগ দিয়েছিলেন অভিনন্দন। ২৪ বছর পর চাকরি জীবন শেষ হওয়ার আগেই নীরবে বায়ুসেনা থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনন্দন বর্তমান। ২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক উড়ান পরিষেবা চালু করেছে FLY91। বর্তমানে তাদের কাছে ATR 72–600 মডেলের বেশ কয়েকটি বিমান রয়েছে। মনোজ চ্যাকো এবং হর্ষ রাঘবন প্রতিষ্ঠিত এই বিমান সংস্থাটি দেশের ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর মধ্যে যাতায়াত সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। মূলত গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, কোচি, পুনে এবং লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে চলাচল করে এই সংস্থার বিমান।
