বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

পুজোর পাঁচটা দিন কাটিয়ে আসুন ডুয়ার্সের অফবিট নিমং থেকে

31 August, 2026 6:13 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

সুনেত্রা সেনগুপ্ত : শহুরে কোলাহল, নিত্যদিনের ইঁদুর দৌড় আর দূষণ থেকে মুক্তি পেতে মন যখন হাঁপিয়ে ওঠে, তখন বাঙালির প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে পাহাড় কিংবা জঙ্গল। অল্প ছুটিতে এই দুইয়ের মেলবন্ধন যদি এক জায়গায় পেতে হয় তাহলে ডুয়ার্স এর কথাই প্রথম মনে পড়ে। তবে আমাদের কাছে ডুয়ার্স মানেই গরুমারা, জলদাপাড়া কিংবা বক্সার জঙ্গল। কিন্তু চেনা ছকের বাইরে, পর্যটকদের ভিড় থেকে অনেক দূরে, কালিম্পং জেলার খুব কাছেই লুকিয়ে রয়েছে এক মায়াবী গ্রাম নিমং ।

কুয়াশা মাখা পাহাড়, ধাপে ধাপে নেমে আসা চা বাগান আর চেল নদীর কুলকুল শব্দ, সব মিলিয়ে নিমং যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক সজীব ছবি।ভৌগোলিক দিক থেকে কালিম্পং জেলায় অবস্থিত হলেও, নিমং মূলত ডুয়ার্স এবং পাহাড়ের সংযোগস্থল। সমতল থেকে পাহাড়ের দিকে ওঠার পথেই পড়ে এই ছোট্ট জনবসতি।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও বানিজ্যিক পর্যটনের গ্রাসে হারিয়ে যায়নি। তাই এখানে নেই হোটেলের আড়ম্বর না থাকলেও রয়েছে অসীম প্রাকৃতির সৌন্দর্য। নিমং এ পৌঁছে যেতে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে মালবাজার হয়ে চেল নদীর পাশ দিয়ে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলতে হবে।

এই রাস্তার দুপাশে কখনো ঘন জঙ্গল, কখনো বা পাইন ও ওক গাছের সারি পেরিয়ে চলতে হবে। কিছুটা ওপরে উঠলেই চোখে পড়বে দিগন্তবিস্তৃত চা বাগান। ফাগু টি-এস্টেট পার করে যখন আপনি নিমং-এর পথে ঢুকবেন, তখন মেঘেরা আপনাকে স্বাগত জানাবে। তবে এখানে নির্দিষ্ট কোনো ‘সাইট সিন’ বা দর্শনীয় স্থান না থাকলেও পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগের অনেক জায়গা রয়েছে।এখানে প্রথমেই দেখা যেতে পারে চেল নদী।

গ্রামের গা ঘেঁষেই বয়ে চলেছে চেল নদী। অনেকটা নিচে দেখা যায় নদীর রুপোলি রেখা। পায়ে হেঁটে বা গাড়ি নিয়ে নদীর পাড়ে কিছুটা সময় কাটানো যায়। শীতকালে নদীর জল স্বচ্ছ কাঁচের মতো, আর বর্ষায় তা ভয়ংকর সুন্দর। নিমং-এর চারপাশে রয়েছে নামী-দামি সব চা বাগান। তার মধ্যে অন্যতম ‘সামাবিয়ং টি এস্টেট’। পাহাড়ের ধাপে ধাপে সাজানো সবুজ গালিচার মতো এই চা বাগানে হাঁটলে মন ভালো হতে বাধ্য। যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন, নিমং তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য।

হিমালয়ের বহু দুষ্প্রাপ্য পাখি, যেমন, স্কারলেট মিনিভেট, ভার্ডিকটার ফ্লাইক্যাচার বা হর্নবিলের দেখা মিলতে পারে বাড়ির বারান্দায় বসেই। এখানকার স্থানীয় মানুষ মূলত গোর্খা সম্প্রদায়ের। তাঁদের সহজ-সরল জীবনযাপন, আতিথেয়তা এবং পাহাড়ি সংস্কৃতি খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ মেলে। গ্রামের মেঠো পথ ধরে হাঁটলে দেখা মিলবে পাহাড়ি ফুল আর অর্কিডের।যেহেতু নিমং এখনও পুরোপুরি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে ওঠেনি, তাই এখানে থাকার জন্য বড় কোনো হোটেল নেই। ভরসা একমাত্র হোমস্টে।

স্থানীয়রা তাঁদের বাড়ির অতিরিক্ত ঘরগুলি সাজিয়ে দিয়েছেন পর্যটকদের জন্য। এই হোমস্টেগুলির আতিথেয়তা পাঁচতারা হোটেলকেও হার মানাবে। ঘরের জানলা খুললেই পাহাড় আর মেঘের খেলা। খাবারেও মিলবে ঘরোয়া স্বাদ। স্থানীয় খামারের টাটকা সবজি, দেশি মুরগির ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা দার্জিলিং চা, নিমং সফরের অন্যতম পাওনা।সারা বছরই নিমং যাওয়া যায়।

তবে অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত আবহাওয়া সবথেকে মনোরম থাকে। শীতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলতে পারে। আর বর্ষায় নিমং সেজে ওঠে গাঢ় সবুজে। তাই পুজোর ছুটিতে হাতে কিছুদিন পেলেই সহজেই ঘুরে আসতে পারেন নিমং থেকে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee