ভালো আছেন অভিনেতা খরাজ, নেপালে নিখোঁজ মুকুলের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা
সুনেত্রা সেনগুপ্ত : নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কলকাতা-সহ এ রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৩৬ জনের খোঁজ মিলছে না। পরিবারগুলিতে প্রতি মুহূর্তে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেকেই প্রিয়জনের ফোনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
বুধবারই নেপাল-চিন সীমান্তে নেমে আসে বিপর্যয়। ভোটেকোশী নদীতে ভয়ানক হড়পা বান নেমে আসায় বহু গ্রাম ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখনও পর্যন্ত ১৬০-এর উপর মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ বহু। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন অনেক ভারতীয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে নেপালে গিয়েছিলেন পর্যটকেরা।
নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন কলকাতা, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, দার্জিলিং-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার পর্যটকেরা। পরিবারগুলির দাবি, যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাঁদের কারও সঙ্গেই। প্রয়াত নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় গত ২১ অগস্ট নেপাল গিয়েছিলেন একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির সঙ্গে। বুধবার থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, হড়পা বান বিপর্যয়ের পর থেকেই তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থা ৩২ জনের একটি দলকে নিয়ে গত ২১ অগস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ওই পর্যটকদলের গন্তব্য ছিল মানস সরোবর। শুভ্রাংশু জানান, শর্মিষ্ঠা ওই দলেই ছিলেন। একাই গিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। শুভ্রাংশু বলেন, ‘নিখোঁজ তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। ছেলেমেয়ে যায়নি। আমার সঙ্গেই রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’ শুভ্রাংশুর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৭ সেপ্টেম্বর বৌদির ফেরার কথা ছিল। পরশু অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে। তখন নেপালের কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল।
কিন্তু বুধবার থেকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বৌদিকে। নেপালে নিখোঁজ হওয়া অধিকাংশ পর্যটকেরই গন্তব্য ছিল কৈলাস-মানস সরোবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৩২ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর মিলেছে। সরকার তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর করছে। নবান্নে বুধবার রাত থেকে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নেপাল সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সাত-আট জনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে। এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের মধ্যে অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় আটকে পড়েন নেপালে। সেখান থেকেই জানিয়েছেন, ‘বৃষ্টি প্রচন্ড হচ্ছে, কালকে শ্যুটিং করছিলাম, ৫ ঘণ্টার মতো আমরা বৃষ্টির মধ্যে জঙ্গলে বসেছিলাম। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই ছিলাম।’
অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন অভিনেত্রী মানসী পারেখ। নেপালের ভয়াবহ হড়পা বান থেকে কোনও মতে বাঁচলেন তিনি। মানসী বর্তমানে সদগুরুর কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য চিনে রয়েছেন। তিব্বতের গিরং বন্দর হড়পা বানে তছনছ হয়ে গিয়েছে। সেখানেই বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৭ অগস্ট তাঁর যাওয়ার কথা ছিল বলে জানান মানসী। বন্যার ভয়াবহ ছবি এবং ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাগ করে মানসী জানিয়েছেন, তিনি নিরাপদে আছেন।
একই সঙ্গে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তিনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুরাগীদের প্রার্থনা করার আবেদনও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।পাশাপাশি কলকাতা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বাসিন্দা সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডু, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের বাসিন্দা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা, দুর্গাপুরেরই আর এক দম্পতি অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায় এবং মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডল, তারকেশ্বরের চাউলপট্টির বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তের ,শিলিগুড়ির বাসিন্দা সমর মণ্ডল সহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা।সরকারি তরফে তাদের সাহায্য করা হলেও অনেকের পরিবার আত্মীয়দের খোঁজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন।
