নেপালের হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা শতাধিক, ভারতীয়-সহ নিখোঁজ প্রায় ৪০০
কাঠমাণ্ডু: নেপালের চীন-তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে ভোট কোশি নদীর প্রবল হড়পা বানে রাস্তা, সেতু, বসতবাড়ি ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, দুর্গত এলাকায় থাকা বা ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করা ৪০০ জন পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় এখনও পর্যন্ত শতাধিক জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। রাসুওয়ার তিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও আশপাশের এলাকায় বহু বাড়িঘর জলের স্রোতে ভেসে গেছে। বেশ কয়েকটি পুলিশ ইউনিটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ২৬ জন পুলিশ সদস্যের খোঁজ মিলছে না।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকায় নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রার জন্য তিব্বতের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এছাড়া আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন।
নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যটন সংস্থা, গাইড, ট্রাভেল এজেন্সি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিখোঁজের সংখ্যা এবং প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে কিছু পর্যটক নিরাপদে থাকলেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে তাঁদের নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।
সে দেশের একটি সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৯০ জন তীর্থযাত্রীর বুধবার তিব্বতের সীমান্ত পার হওয়ার কথা ছিল। তাঁদের মধ্যে ৯৩ জন নেপালি ছিলেন। এইসব যাত্রীর বেশির ভাগের সঙ্গেই বন্যার পর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান ব্য়হত হয়। রাসুওয়ার দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার পাঠানোর চেষ্টা হলেও অনেক জায়গায় জলস্তর বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বন্যার প্রভাব শুধু রাসুওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও তার বিধ্বংসী প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। সেতু ও সড়ক ধ্বংস হওয়ায় দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো এবং নিখোঁজদের খোঁজ করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অংশেও একই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। গিরং এলাকায় ভূমিধস ও বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেখানেও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোট কোশি নদীর প্রবল স্রোত নেপালের আরও নীচের দিকে নামায় ত্রিশূলী নদীর অববাহিকা এলাকায় বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে। তাই প্রশাসন সমগ্র এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে।নেপাল সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নদীর ভয়ঙ্কর স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজে সময় লাগছে।
