সুমিত মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
দিল্লি:অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের একটি কেসে আগাম জামিনের মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠল সোমবার। সেখানেই শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল ইডিসহ কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি। ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’–এর প্রসঙ্গ উঠে এলে তদন্ত প্রক্রিয়া কেন এত ঢিমেতালে চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা।
এদিন সকালে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে সুমিত রায়ের মামলার শুনানি শুরু হয়। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা তাঁর সওয়ালে অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ কোটি টাকা ‘লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস’–এর মতো সংস্থার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। সেই সময়ই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ভর্ৎসনা করেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে। তিনি বলেন, তদন্তকারী সংস্থা বরাবর ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’–এর কেসে তদন্তের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা মনোভাব দেখাচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি এই বিষয়ে একাধিকবার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হেফাজতে নিয়ে জেরা করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সি কখনই তৎপরতা দেখায়নি। এই ক্ষেত্রে তদন্তকারী এজেন্সি কখনও অদ্ভুতভাবে চুপচাপ হয়ে যায়। আবার কখনও অতি তৎপর হয়ে ওঠে। তদন্তের ক্ষেত্রে সব সময় একটা নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ অভিযোগ করেন, এগারো দিন ধরে তার মক্কেলকে লাগাতার জেরা করা হয়েছে। কিন্তু যে বিষয়ে সুমিত রায় অভিযুক্ত, সেই বিষয়ে একবারও প্রশ্ন করা হয়নি। এরপরই গোপাল শঙ্করনারায়ণের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে সলিসিটর জেনারেল জানান, সুমিতকে প্রাসঙ্গিক সব প্রশ্নই করা হয়েছে। তার যথেষ্ট প্রমাণও রয়েছে। আদালতে সব প্রমাণ জমা দেওয়া হবে। দেখা গেছে, মাত্র ১০ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। নগদ কালো টাকা অন্য কোথাও রাখা আছে। সম্প্রতি ২ কোটি টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। সেইসব জিজ্ঞাসাবাদের ট্রান্সক্রিপ্ট চেয়েছে শীর্ষ আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার।
এদিকে রবিবার সন্ধেয় ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে সুমিত রায়ের নিউ আলিপুরের বাড়িতে নোটিস দিতে যায় শেক্সপিয়র থানার পুলিশ। বুধবার সুমিতকে থানায় তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে রবিবার সকালেই রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েনকেও তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস ধরিয়েছিল পুলিশ। সোমবার তাঁকে শেক্সপিয়র থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি থানায় দেখা করতে যাবেন না বলে জানিয়ে দেন।
