নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বন্ধুত্বের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
সংবাদদাতা, নন্দীগ্রাম: আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ও ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি বন্ধের ডাক দিয়ে সংখ্যালঘুদের কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের পর এবার নন্দীগ্রামের ভোটপ্রচারে গিয়েও বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে তিনি এই সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা দিলেন। বৃহস্পতিবার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেছিলেন, হিন্দু-মুসলিম বা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর আলাদা কোনও রাজনীতি চলবে না। বন্ধ হোক ৭০-৩০ শতাংশের খেলা। তিনি রাষ্ট্রবাদ এবং সার্বিক উন্নয়নের বার্তা দিয়ে জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমস্ত কল্যাণমূলক প্রকল্প ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। এর ঠিক পরেরদিন, শুক্রবার নন্দীগ্রামের দেবীপুরে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে প্রচারসভায় অংশ নিয়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু ভাইবোনদের বলছি, আর মুখ ফিরিয়ে থাকবেন না। বন্ধুত্বের এটাই উপযুক্ত সুযোগ। আসুন, আগামী ৬ অক্টোবর সবাই এক হয়ে বিজেপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করি”। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কড়া জবাব দিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপিকে ‘মুসলিম বিরোধী’ বলে ভুলভাবে চিত্রিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু রাজ্য প্রশাসনের এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। ধর্ম নির্বিশেষে নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা সবার ব্যক্তিগত বিষয়। বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারীর সংযোজন, “আমরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলি, কিন্তু তা কারও ওপর জোর করে চাপাতে চাই না। আপনারা ‘জয় শ্রীরাম’ বলবেন নাকি ‘ভারত মাতা কী জয়’ বলবেন, সেটা সম্পূর্ণ আপনাদের নিজস্ব পছন্দ।” বিরোধী দলগুলির রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “সংখ্যালঘুরা সরকারের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে কী লাভ পাবে? কাকে ভোট দেবেন? একটা উঠে যাওয়া দলকে, নাকি সাইনবোর্ডে পরিণত হওয়া কংগ্রেসকে, নাকি অস্তিত্বহীন সিপিআই-কে। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে এই ‘বন্ধুত্বের বার্তা’ সংখ্যালঘু ভোটারদের সমীক্ষণে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
