বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

পর্যটনে অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন পরিকল্পনার বার্তা মন্ত্রীর

26 September, 2026 3:12 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস। তার আগে শনিবার  উত্তরবঙ্গের পর্যটন সম্ভাবনাকে আগামীতে আরও জোরদার করার পক্ষে মন্তব্য করলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পাশাপাশি পর্যটন ক্ষেত্রের অতীতের খামতি ও আগামী দিনের পরিকল্পনার বিষয়েও বক্তব্য রাখলেন তিনি। এদিন শিলিগুড়িতে  আয়োজিত এক শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে পর্যটনের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণসহ স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে পর্যটনকে যুক্ত করার বার্তা দিলেন তিনি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দু’ দিনের এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে শোভাযাত্রা ও ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর ও ফেডারেশন অফ বেঙ্গল হোটেলিয়ার্সের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচির সূচনা হয় কলেজ মাঠ থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রায় স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, সাংস্কৃতিক সংস্থা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মোট ৪২টি দল ও সংগঠন অংশ নেয়। পুলিশ ব্যান্ড, টোটো, ঘোড়ার গাড়ি, পালকি, ঢাকি ও লায়ন ডান্স ছিল শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ। বিশেষভাবে সক্ষমরাও অংশ নেন কর্মসূচিতে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পর্যটনমন্ত্রী  অতীতে পর্যটন দপ্তরের জন্য বরাদ্দ অর্থ খরচের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে পর্যটন দপ্তর মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ টাকাও পর্যটনের উন্নয়নে খরচ করতে পারেনি। অর্থাৎ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ২০ টাকাও কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রীর অভিযোগ, যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, তা নিয়েও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

মন্ত্রীর অভিযোগ, গত কয়েক দশক ধরে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনার কথা বলা হলেও সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে রাজ্যের পর্যটনকে নতুন দিশায় নিয়ে যেতে আগামী দিনে একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন পর্যটনকেন্দ্রকে সামনে আনা, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করাসহ পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়, ডুয়ার্স, চা-বাগান, জঙ্গল, নদী সহ লোকসংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, তা আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার বার্তা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের আন্তর্জাতিক ভাবনা ‘Digital Agenda and Artificial Intelligence to Redesign Tourism’। সেই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে পর্যটন পরিষেবাকে আরও আধুনিক, সহজলভ্য ও নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।এদিনের কর্মসূচিতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়, ট্রাফিক ডিএসপি কাজি শামসুদ্দিন আহমেদ-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।বিশ্ব পর্যটন দিবসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ‘Explore West Bengal’-এর বার্তা সামনে এসেছে, অন্যদিকে অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে প্রযুক্তি, পরিকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় অর্থনীতির সমন্বয়ে রাজ্যের পর্যটনকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik