ফের রহস্য মৃত্যু কলেজ ক্যাম্পাসে
নিজস্ব প্রতিবেদন : আবারও কলেজ ক্যাম্পাসে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা।
বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় এক ছাত্রীর। এদিন সকালে গার্লস হস্টেল থেকে উদ্ধার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। মৃতের নাম তৃষা সাহা, বয়স ২৩ বছর। তিনি এমএসসি ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্রী। সকালে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান সতীর্থরা।
সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। সেখান থেকে থানায় খবর দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীর দেহটি উদ্ধার করে। তাঁকে পুন্ডিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী শিলিগুড়ির বাসিন্দা।
সেখান থেকেই উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসে সে। পড়াশোনার কারণে তিনি হস্টেলেই থাকতেন। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছেন ওই ছাত্রী। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আভাসকুমার সিনহা সহ অন্যান্য আধিকারিক।
উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, ‘সকালে মেট্রনের ফোন পাই একটি মেয়ে বহুক্ষণ ধরে দরজা খুলছে না। আমি পুলিশে খবর দিতে বলি। দরজা ভাঙতে কারপেন্টারও ডাকা হয়।’ জানা গিয়েছে, হস্টেলের ওই ঘরে একাই থাকতেন তৃষা। পুলিশ আসার আগেই হস্টেলে থাকা বাকি পড়ুয়াদের চাপে দরজা ভাঙা হলে ওই ছাত্রীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। কী কারণে এমএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রী তৃষা এমন পদক্ষেপ করলেন সেই উত্তর এখনও জানা যায়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় মেয়েটি খুব হাসি-খুশি ছিল। কেন এমন ঘটনা তা স্পষ্ট নয়। মৃতার মামার দাবি, কোনও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন না তৃষা। পরিবারে বা কলেজেও উৎকণ্ঠায় ভোগার কোনও ঘটনা ঘটেনি। তা হলে কেন আচমকা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ২৩ বছরের তরুণী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট ভাবে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
