অর্ণবের ল্যান্ডফলে তছনছ অন্ধ্র উপকূল, এগোচ্ছে ছত্তিশগড়, ওড়িশার দিকে

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার রাত ২টো থেকে বুধবার সকাল ৮টা —রীতিমত তণ্ডব চালালো ঘুর্ণিঝড় অর্ণব। তার দাপাদাপিতে কার্যত তছনছ অন্ধ্র উপকূল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁকিনাড়া জেলা। সেখানে সমুদ্রের জল রাস্তা পার করে এসে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। এখানকার বহু মানুষ প্রায় নিঃস্ব। তারা সব কিছু হারিয়ে আর্থিক এবং সামাজিক স্থিতাবস্থা ফিরে পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ৩০ হজাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে গেছে প্রশাসন। এই বিপদের মোকাবিলায় সাহায্য চেয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চিঠি পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের কাছে। জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের মাঝেই অন্ধ্রের আনাকাপল্লি ও বিশাখাপত্তনমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন ২ জন।
ল্যান্ডফল শেষ হয়ে গেলেও বেশ কিছু জেলায় এখনও রেড অ্যালার্ড জারি রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। অন্ধ্রের উপকূল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলে ভরে রয়েছে। মৌসম ভবন জানিয়েছেস মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত শুধুমাত্র বিশাখাপত্তনমেই বৃষ্টি হয়েছে ২১৬ মিলিমিটার। এছাড়াও কলিঙ্গপত্তনমে ১৪৭ মিলিমিটার, কাঁকিনাড়ায় ১১৮ মিলিমিটার, মছলিপত্তনমে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া, আনাকাপল্লি, কোনাসীমা, পূর্ব গোদাবরী, পশ্চিম গোদাবরী, এলুরু, এনটিআর ও কৃষ্ণা জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসম ভবন জনিয়েছে, ল্যান্ডফলের সময় ঘুর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিমি। সেই সঙ্গে দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিমি পর্যন্ত।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার ল্যান্ডফল শেষ করে অর্ণবের ‘চোখ’ স্থলভাগে স্থলভাগে ঢুকে গিয়েছে। এখনও ঝড়ের দাপট চলবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশায়। সেই কারণে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এই দুই রাজ্যে। বিশেষ করে ওড়িশার গজপতি, গঞ্জাম, রায়গড়া, কোরাপুট এবং মালকানগিরির মতো জেলাগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, স্থলভাগে প্রবেশের পরই শক্তি কমেছে অর্ণবের। এবার সে অন্ধ্র থেকে উত্তর দিকে এগোতে শুরু করেছে। বুধবার রাতের মধ্যে ছত্তিশগড় ছুঁয়ে ওড়িশায় ঢুকে পড়ীর সম্ভাবনা রয়েছে তার। সেই কারণেই অন্ধ্রপ্রদেশ ওবং ওড়িশায় দিনভর প্রবল দুর্যোগের সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর।
অর্ণবের সে রকম কোনও প্রভার অবশ্য এখনও কলকাতায় পড়েনি। আকাশ আংশিক মেঘলা হলেও আবহাওয়া স্বাভাবিকই আছে। তবে হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা বলছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বাংলায় এই ঘুর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ব্ষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে।
