‘ভগবান আছে’, গাইঘাটা কান্ডে এনকাউন্টারকে সমর্থন কিশোরীর পরিবারের

সংবাদদাতা, বনগাঁ: গাইঘাটা কান্ডে ধৃত প্রহ্লাদ দাসকে এনকাউন্টার পুলিশের। ভোররাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থলে। শৌচাগারের জন্য় গাড়ি থেকে নামেন ধৃত। এরপরই সার্ভিস রিভলবর ছিনিয়ে নিয়ে সাব ইন্সপেক্টরকে তিন রাউন্ড গুলি চালায়। আত্মরক্ষার তাগিদে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। পরে তাকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এমনই দাবি পুলিশের।
এনকাউন্টারে মৃত্য়ু নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পুলিশকে সমর্থন করেছে নিহত কিশোরীর পরিবার। নিহত কিশোরীর মা জানান, “অভিযুক্ত ছেলেটি পালানোর চেষ্টা করছিল। গুলি চালিয়েছিল। শুনেছি মারা গিয়েছে। ভালই হয়েছে।” কিশোরীর পরিবারের আর এক সদস্য এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করছিল। পুলিশের উপরেই গুলি চালানোর চেষ্টা করে। শুনেছি এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে। তার জন্য পুলিশ-প্রশাসনের কাছে কৃতজ্ঞ। এটা বুঝলাম যে, উপরে ভগবান আছেন। আমরা সঠিক বিচার পেয়েছি।”
মঙ্গলবার সকালে নিহত প্রহ্লাদের পরিবার সদস্যরাও খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। প্রহ্লাদের ভাই জানান, কী হয়েছিল, তিনি খুব একটা জানেন না। রবিবার রাতেও বাড়িতে এসে দাদাকে আরাম করেই শুয়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরদিন বাড়িতে পুলিশ এসে ওকে তুলে নিয়ে চলে গেল। বাড়িতে কোনও কথাও জানায়নি পুলিশ। তাঁর মতে, ” আমি ভাবতে পারিনি যে দাদা এটা করবে। ও এমন একটা ছেলে যে কেউ বলতে পারবে না ও এই কাজটা করেছে। সবাই আশ্চর্য হয়ে গিয়েছে।” এনকাউন্টারের বিষয়ে অভিযুক্তের ভাই বলেন, পুলিশ তাদের প্রথমে কিছু জানায়নি। সকালে পুলিশের ফোন আসে বাড়িতে। বাবা মাকে ডেকে পাঠায়। পরে তাঁরা শোনেন, হাসপাতালে দাদার মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।
ধর্ষণকাণ্ডে এনকাউন্টারকে সরাসরি প্রশংসা করেছেন পানিহাটি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের অপরাধীদের ক্ষেত্রেও একই পরিণতি হওয়া উচিত। যারা মেয়েদের ভোগ্যপণ্য মনে করে, তাদের এমন চরম পরিণতিই হওয়া উচিত। পানিহাটির বিধায়ক জানান, পূর্বতন সরকার ধর্ষণে অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দ্রুত বিচারের পথ সুগম করছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখার কোনও যুক্তি নেই। এনকাউন্টারই এদের জন্য সঠিক শাস্তি। এভাবে কঠোর পদক্ষেপ করলে তবেই অপরাধীরা ভয় পাবে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও বিষয়টি নিয়ে কোনও দ্বিধা রাখছেন না। তিনি জানিয়েছেন, তিনি এনকাউন্টারকে সমর্থন করেন। মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনতে হলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হয়। দিলীপের দাবি, “ধর্ষকদের ভয় পাওয়াতে হবে। এভাবে মানুষের মনে ভয় ঢুকবে। আইন অমান্য করলে এমনই হবে।” রাজ্য় সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এনকাউন্টারের সমর্থন নিয়েই বক্তব্য় রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ কখন গুলি চালাবে, সেটা পুলিশ ভাল করেই জানে।
