বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ধুন্ধুমার! জয়পুরে আক্রান্ত ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’র নেতারা

21 August, 2026 4:34 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

জয়পুর : জয়পুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে মারাত্মক আক্রমণের মুখে পড়ল ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র একটি প্রতিনিধি দল। শুক্রবার জয়পুরের বাগড়ু বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রামপুরা কানওয়ারপুরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। সিজিপি-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রানকার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি যখন গ্রামে প্রবেশ করছিল, ঠিক তখনই ক্ষিপ্ত জনতা তাঁদের ঘিরে ধরে গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয় বলেও অভিযোগ।

ঘটনার একাধিক নাটকীয় ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উন্মত্ত জনতা সিজিপি নেতাদের উদ্দেশ্যে “আর্বান নকশাল”, “দেশবিরোধী” এবং “পাকিস্তানি” স্লোগান দিতে দিতে পিছু ধাওয়া করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রাণ বাঁচাতে এবং হামলা থেকে বাঁচতে স্কুল পরিদর্শন না করেই গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন সিজিপি কর্মীরা।

গোয়ালঘরে চলছে স্কুল, কাঠগড়ায় বিজেপি

এই হিংসাত্মক হামলার পেছনে সরাসরি রাজ্যের শাসকদল বিজেপি-র হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে ককোরোচ জনতা পার্টি। সিজিপি নেতা আশুতোষ রানকা দাবি করেন, গ্রামের বাসিন্দাদের আমন্ত্রণেই তাঁরা ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন, যা দীর্ঘদিন ধরে একটি গোয়ালঘরে চালানো হচ্ছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রানকা বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরে ওই স্কুলটি একটি গোয়ালঘরে চলছে। আমরা গত বছরও এই স্কুলে এসেছিলাম। আজকের পরিদর্শনের বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিজেপির গুণ্ডারা আগে থেকেই সেখানে ওঁৎ পেতে বসেছিল। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালানো হয়েছে, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং মোবাইল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমাদের দলের মহিলা সদস্যদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে, আমার জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের এক সহকর্মীর হাত ভেঙে গেছে।”

তবে এই ঘটনার জন্য গ্রামবাসীদের দায়ী করতে নারাজ রানকা। এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে এনে এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় এক বিজেপি কাউন্সিলার হামলাকারীদের টাকা বিলি করছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পাল্টা তোপ বিজেপির, বিধানসভায় কংগ্রেস-বিজেপি তরজা

অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক স্বামী বালমুকুন্দাচার্য। তিনি দাবি করেন, সিজিপি-র মতাদর্শের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা একমত নন। বিধায়কের কথায়, “গ্রামবাসীরাই এই পরিদর্শনে আপত্তি জানিয়েছিলেন এবং তাঁদের গ্রামে ঢুকতে দেননি। এর থেকেই স্পষ্ট যে সিজিপি শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটানোর যে চেষ্টা করছে, তা গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না।”

সিজিপি প্রতিনিধি দলের সদস্য শিবাঙ্গী শর্মা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তিনিও ওই অঞ্চলেরই মেয়ে। তা সত্ত্বেও তাঁকে “পাকিস্তানি” ও “নকশাল” বলে গালিগালাজ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাজস্থান বিধানসভাতেও। কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং ডোটাসরা হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও, রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জওহর সিং বেধাম পাল্টা দাবি করেন যে কংগ্রেসই সিজিপি-র আড়ালে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করার চক্রান্ত করছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee