বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সামশেরগঞ্জে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এনকাউন্টার গাইঘাটা ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টার করে অভিযুক্তের মৃত্য়ু সরশুনা কাণ্ডে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ একই দিনে জোড়া এনকাউন্টার রাজ্য়ে

হাসতে হাসতে জীবন–সত্যের উপলব্ধি

27 October, 2026 8:52 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

শৌভিক সরকার

শুভাশিস রায়চৌধুরীর রচনা ও নির্দেশনায় খাঁটুরা চিত্তপট সম্প্রতি শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চস্থ করল তাদের এ বছরের নতুন নাটক ‘‌উল্টোডাঙায় সোজা’‌। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বেশ অন্যরকম একটি নাটক দেখার স্বাদ পেলেন দর্শক। এই নাটকে এমন একজন মানুষের কথা বলা হয়েছে, যার কাছে অর্থ অর্থাৎ টাকাই শেষ কথা। তিনি টাকা ছাড়া অন্য কোনও কিছুকে কোনওদিন ভালোবাসেননি। বংশানুক্রমে তাদের তেলের ব্যবসা। আর তা থেকেই প্রচুর রোজগার। মজার ব্যাপার হল, ওই ব্যক্তি ব্যাংকে টাকা রাখার পরিবর্তে টাকা জমিয়ে রাখেন তেলের টিনে। তাঁর ভয়, ব্যাংকে টাকা রাখলে যদি ব্যাংক সব টাকা নিয়ে নেয় অথবা ব্যাংকের সব টাকা নিয়ে কেউ যদি বিদেশে পালিয়ে যায়!‌ এই নাটকের মূল চরিত্র নগেন পাল। তাঁর স্ত্রীর নাম অন্নপূর্ণা। কিন্তু নগেন ভুলেই গিয়েছিলেন যে অর্থই হল অনর্থের মূল। নিঃসন্তান নগেনের চিটিংবাজ ভাগ্নে মন্টু এক দরিদ্র মানুষ অনুপকে নাটাকেষ্ট নামের এক গুন্ডা সাজিয়ে নগেনের উল্টোডাঙার বাড়ির ভাড়াটে হিসেবে নিয়ে আসে। আর তাকে সঙ্গে নিয়ে মামার সব টাকা, সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করে। নগেনের স্ত্রী গোলমালের আভাস পেয়ে তাদের বাড়ির দুই ভাড়াটে মিতা ও নীতার সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। মিতারা একটি অনাথ আশ্রম ও একটি বৃদ্ধাশ্রম চালায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মিতার দাদা, যিনি কলকাতার একটি দলে নিয়মিত থিয়েটার করেন তাঁকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সাজিয়ে নিয়ে আসা হয়। এরপরেই একে একে মন্টুর সমস্ত খারাপ উদ্দেশ্য সামনে আসে। নগেন মন্টুকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেযন। নাটাকেষ্ট ওরফে অনুপম হয়ে ওঠেন একজন আপাদমস্তক ভালো মানুষ। আর নগেনও বুঝতে পারেন দানে যে আনন্দ আছে, ভোগে তা নেই। এই নাটকে নাটককার হাসির মোড়কে বোঝাতে চেয়েছেন যে, অর্থ এবং স্বার্থের ওপরে মানবতার স্থান। আনুমানিক এক ঘন্টার এই নাটক হাসতে হাসতে আমাদের জীবনের আসল সত্যিটা শিখতে বাধ্য করে। নাটকে নাটাকেষ্ট চরিত্রে সুরজিৎ হালদার অসাধারণ। অন্নপূর্ণা চরিত্রে দেবযানী গাঙ্গুলী চমৎকার অভিনয় করেছেন। নৃত্য কোরিওগ্রাফিরও প্রশংসা করতে হয়। নগেন চরিত্রে শুভাশিস রায়চৌধুরী অনবদ্য অভিনয় মনে থাকবে। ভাগ্নে মন্টুর চরিত্রে শঙ্খদীপ রায়চৌধুরী দারুণ। ইনকাম ট্যাক্স অফিসারের চরিত্রে তপন রায়চৌধুরীর পরিমিত অভিনয় ভালো লাগে। সুত্রধর চরিত্রে অরুন্ধতী চ্যাটার্জী নাটকের সুত্র ধরিয়ে দেন সুন্দর ভাবে। মিতা ও নীতার চরিত্রে কাকলি সেন ভৌমিক ও তাপসী সাহা কুন্ডু যথাযথ। বিশেষ চরিত্রে অঞ্জন চ্যাটার্জিও ভালো অভিনয় করেছেন। তথাগত চৌধুরীর আবহ নির্মাণ ও অয়ন দাসের আবহ প্রক্ষেপণ নাটকে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। অঞ্জন চ্যাটার্জির মঞ্চ নাটকের দৃশ্যপটকে সুন্দর করে তুলেছে। গৌতম সরকার ও সুদীপ্ত সরকারের আলো নাটকের বিশেষ সম্পদ।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik