ধেয়ে আসছে অর্ণব, ঝড়ের মোকাবিলায় কোমর বাঁধছে দীঘা থেকে সুন্দরবন প্রশাসন

সংবাদদাতা, দীঘা: অর্ণবের প্রভাবে বাংলাতেও বৃষ্টি হবে আগেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। আর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মিলিয়েই সন্ধে থেকে কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে হালকা বৃষ্টি। ইতিমধ্যেই উপকূল এলাকায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সাইক্লোনের। সুন্দরবনের কুলতলির মানুষজন ইতিমধ্যেই আতঙ্কে রয়েছেন। রাতের ঘুম উড়েছে কুলতলির দেউলবাড়ি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের। এছাড়া ঝোড়ো হাওয়ায় খড়্গপুরে গাছ ভেঙে পড়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর, পটাশপুরে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সমুদ্রে না নামার জন্য দীঘায় চলছে মাইকিং। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি আসছে কলকাতাতেও। বিদ্যুৎহীন দাঁতনের একাধিক এলাকা। মাত্র ৬ ঘণ্টায় তীব্র থেকে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। অন্ধ্র ও দক্ষিণ ওড়িশায় লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি আজ ও কাল পুরীতে ঝড়-বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। কলকাতা, হাওড়াতেও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। আগামী তিনদিন বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনাতেও। অর্ণবের আতঙ্কে রয়েছেন সুন্দরবনের মানুষজন। আয়লা থেকে আমফান, বুলবুল থেকে ইয়াস। প্রত্যেকবারই ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে মাটির নদী বাঁধ ভেঙে ভেসেছে গ্রামের পর গ্রাম।
ভুক্তভোগী মানুষ বলছেন, বাঁধ ভাঙলেই সর্বনাশ। নোনা জল ঢুকে নষ্ট হয় বাড়িঘর, তলিয়ে যায় চাষের ধান, নষ্ট হয়ে যায় পুকুরের মাছ, চিংড়ি। এক ঝড়েই সর্বস্বান্ত হয়ে যান তাঁরা। আবার সেই একই আশঙ্কা তাড়া করছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় মৎস্যজীবীরা। জলোচ্ছ্বাস হলে নদীতে বাঁধা নৌকা ডুবে যায়, ভেঙে তলিয়ে যায়। জীবিকাই বন্ধ হয়ে যায়। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই বুক কাঁপছে উপকূলবর্তী মানুষের। এই পরিস্থিতিতে প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জেলাশাসক সহ সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ ও ত্রাণ শিবির ও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
