চোরবাগান দুর্ঘটনার তদন্তে নামল সিট, ঘটনাস্থল পরিদর্শন সদস্যদের
সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নামল রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। বৃহস্পতিবার প্রথম বার ঘটনাস্থলে যান সিটের সদস্যরা। সঙ্গে ছিল ফরেনসিক দলও। প্রায় ১৫ মিনিট ঘটনাস্থলে থেকে খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল থ্রি-ডি স্ক্যানার।
দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্তকারীরা একাধিক বিষয় ধরে ধরে পরীক্ষা করেন। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, মণ্ডপে প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ কত ফুট চওড়া ছিল, কোন পরিস্থিতিতে ‘মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে’-র মতো বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করা হয়েছিল, সে সব দিকই তাঁরা দেখেন। পাশাপাশি, প্রচুর দর্শনার্থী মণ্ডপে ঢোকার পর ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা বোঝারও চেষ্টা করেন বিশেষ দলের সদস্যরা। সূত্রের খবর, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সিটের প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতীও ঘটনাস্থলে যাবেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে সিটের প্রধান, প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানান, তিন মাসের মধ্যে সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শেষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তাঁর কথায়, “তদন্ত করে ৩ মাসে রিপোর্ট দেওয়াটা চ্যালেঞ্জিং। তবে করতেই হবে। মৃত্যু কী কারণে, সেটা খুঁজে বার করতে হবে। আগামীতে যাতে এই রকম ঘটনা না ঘটে, দোষীদের দোষী সাব্যস্ত করতে হবে।”
দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, হাই কোর্টের কোনও বিচারপতিকে প্রধান করে তদন্তকারী দল গঠন করা হবে। এর পর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। সেই প্রেক্ষিতে অবসরপ্রাপ্ত কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে সিট গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রয়েছেন:
- বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দপ্তরের সচিব
- স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি
- জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) এক সদস্য
- স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রতিনিধি
- রাজ্য পুলিশের ডিজির এক প্রতিনিধি
দুর্ঘটনার ধাক্কায় বিপর্যস্ত চোরবাগানে বিজয়ার দিনেও ‘অন্ধকারে’ই রয়ে গিয়েছে প্রতিমা। হয়নি বরণও। কবে নিরঞ্জন হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটেনি। অন্য দিকে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে আগামী বছর অগ্রিম ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ‘অঙ্গীকার’ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, চোরবাগানের ঘটনা থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে এই পদক্ষেপ করবে রাজ্য। ১৯ জনের মৃত্যুর কারণ কী, দায়ী কারা, এবং বিভ্রান্তিকর ঘোষণা কীভাবে ও কার নির্দেশে হল, এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন সিটের তদন্তের দিকেই নজর থাকবে। থ্রি ডি স্ক্যানারের তথ্য ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
