বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

আরজেডির রাজভবন অভিযান ঘিরে পাটনায় রনক্ষেত্র, তেজস্বী যাদব আটক

19 August, 2026 2:27 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

পাটনা: বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) রাজভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে বুধবার দিনভর উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিহারের রাজধানী পাটনা। সিওয়ানে ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশের একে-৪৭ রাইফেল থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ এবং লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল প্রধান বিরোধী দল। আন্দোলন দমন করতে রাজপথে পুলিশ জলকামান প্রয়োগ করার পাশাপাশি তেজস্বী যাদবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ আরজেডি নেতাকে আটক করে। এ নিয়ে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক সংঘাত এক চরম মাত্রায় পৌঁছেছে।

জেপি গোলম্বর থেকে মিছিলের সূচনা

বুধবার সকালে পাটনার ঐতিহাসিক জেপি গোলম্বর চত্বরে আরজেডির হাজার হাজার সমর্থক, সাংসদ, বিধায়ক ও বর্ষীয়ান নেতারা জমায়েত হন। সেখান থেকে রাজভবনের অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা শুরু হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা রাজ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সিওয়ানে ছাত্রদের ওপর পুলিশের নির্বিচার বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাজভবনের কাছাকাছি পৌঁছালে বিশাল পুলিশবাহিনী তাঁদের পথ আটকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথম জলকামান ব্যবহার করে। এতে মিছিলের গতি সাময়িক ব্যাহত হলেও আরজেডি কর্মী-সমর্থকদের উন্মাদের মতো বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

তেজস্বী আটক, প্রিজন ভ্যানের ওপর উঠল ক্ষুব্ধ জনতা

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশ তেজস্বী যাদবকে আটক করে একটি প্রিজন ভ্যানে তোলে। সেই খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ আরজেডি সমর্থকেরা প্রিজন ভ্যানের ছাদে চেপে বসেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। আটক অবস্থায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব সাফ জানান, “শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের অধিকারের জন্য আমাদের এই লড়াই চলবে। আমরা জেলখানাকে ভয় পাই না। পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ থামবে না।”

তিনি সরাসরি রাজ্যের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর দিকে আঙুল তুলে অভিযোগ করেন, “এই জলকামান ও দমননীতি সম্পূর্ণভাবে সম্রাট চৌধুরীর নির্দেশে চালানো হচ্ছে। কিন্তু এই সব ভয় দেখিয়ে আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। সাধারণ মানুষ জেগে উঠেছে, তারা আজ রাস্তায় নেমেছে। এই স্বৈরাচারী সরকারকে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতেই হবে।”

সুপ্রিম কোর্টে একে-৪৭ ব্যবহারের স্বীকারোক্তি: মিছা ভারতী

প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়ে আরজেডি সাংসদ মিছা ভারতী রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, গত মাসে সিওয়ানে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর একে-৪৭ ব্যবহারের বিষয়টি রাজ্য সরকার স্বয়ং সুপ্রিম কোর্টে স্বীকার করেছে। মিছা ভারতী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে বিহার সরকার স্বীকার করেছে যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে একে-৪৭ রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল। আমাদের প্রশ্ন, কার অনুমতিতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর এমন মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হলো? জেলা শাসক (DM) যদি এই নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তবে তাঁকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা উচিত। বর্তমান সরকার বিহারের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই সিওয়ানে ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালে এক পুলিশ কনস্টেবলকে একে-৪৭ উঁচিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পরবর্তীতে ওই কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সেই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং বিক্ষোভের ওপর গুলি চালানোর কোনো সরকারি নির্দেশ ছিল না।

রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের চেষ্টা

মিছিলে অংশ নেওয়া আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা বলেন, “সমগ্র দেশে, বিশেষ করে বিহারে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। বেকারত্বের বোঝা বইতে বইতে দেশের যুবসমাজ আজ দিশেহারা। তারা সরকারের ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়, স্থায়ী সমাধান চায়।”

অন্যান্য আরজেডি বিধায়কদের সঙ্গে আন্দোলনে নামা প্রবীণ নেতা অলোক কুমার মেহতা জানান, সরকার যখন জনদাবি শুনতে অস্বীকার করে, তখন রাজ্যপালই সংবিধানের রক্ষক হিসেবে থাকেন। রাজ্যের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই তাঁরা রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যাচ্ছিলেন।

সব মিলিয়ে, সিওয়ানের ঘটনা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা অব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে পাটনার রাজপথ যে আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল, তা রাজ্য রাজনীতির চড়তে থাকা পারদকেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee