চাকরি বিক্রির নামে ১০ লক্ষের প্রতারণা! কাঠগড়ায় গাজোলের তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি
সংবাদদাতা, মালদহ: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ লক্ষ টাকার প্রতারণা এবং জাল নিয়োগপত্র দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নেতা মোজাম্মেল হোসেন গাজোল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ছবি মণ্ডল নামে এক মহিলা। জানা গেছে, ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক।
অভিযোগ, ২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছবি মণ্ডলের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট ১০ লক্ষ টাকা নেন মোজাম্মেল। কথা মতো মহিলার হাতে একটি নিয়োগপত্রও তুলে দেওয়া হয়। সেই নিয়োগপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ে যোগ দেন ছবিদেবী। কিন্তু কাজ শুরুর ১৮ দিন পর নিয়মমাফিক কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে পৌঁছোলে দপ্তরের আধিকারিকরা কাগজপত্র পরীক্ষা করে জানান, নিয়োগপত্রটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং প্রতারণার শিকার হয়েছেন তিনি। প্রতারিত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সুবিচারের আশায় জেলা ও স্থানীয় স্তরের একাধিক তৃণমূল নেতার দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু দলীয় প্রভাব ও প্রশাসনিক চাপের মুখে কোনও সুরাহা মেলেনি। উল্টে খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক প্রভাব ও আতঙ্কের কারণে এতদিন পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার।
সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বদল আসায় পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছেন ছবি মণ্ডল। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। মোজাম্মেল হোসেনের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাজোল সহ সমগ্র মালদা জেলায় চরম রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
