‘বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে না বলুন’, আইনি নোটিস নিয়ে মমতাকে পাল্টা হুঙ্কার শুভেন্দুর
সংবাদদাতা, কলকাতা: বিনা অনুমতিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোটের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশের অভিযোগ এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আইনজীবী মারফত ইমেলে নোটিস পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের নিউরোলজির বিভাগীয় প্রধানকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইমেলে নোটিসের কপি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া গোপন মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করা যায় কী করে। পাল্টা মুখ খুলেছেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি জানিয়েছেন, এক্স রে আর এমআরআই রিপোর্ট দেখালে বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না।
নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রোগীর মেডিক্যাল রিপোর্ট সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য,আদালতের নির্দেশ ছাড়া তা কেন প্রকাশ করা হয়েছে। এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেখানো রিপোর্টটি আসল কিনা তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ দিন এসএসকেএম ও নিউরো সায়েন্সেসকে পাঠানো নোটিসে বলা হয়, কোনও পেশেন্টের মেডিক্যাল রিপোর্ট একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত। এই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী ভাবে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানতে চাওয়া হয়েছে, যদি আদালতের নির্দেশে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা না হয়ে থাকে, তা হলে যাঁরা ওই রিপোর্ট দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রামে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মমতার দাবি অসত্য ছিল।সে দিন শুভেন্দু জানান, ২০২১ সালের ২১ মার্চ বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে ভাঙার কোনও চিহ্ন ছিল না। শুভেন্দুর কথায়, বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সেস, ডিপার্টমেন্ট অফ রেডিয়ো ডায়াগনোসিস এর রিপোর্ট পা ভাঙার কোনও প্রমাণ নেই। সিআইডি এটা নিয়ে তদন্ত করছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন , তিনি আগেই এই ঘটনাকে ‘ড্রামা’ বা নাটক বলে উল্লেখ করেছিলেন। এখন এই রিপোর্ট ও ব্যান্ডেজ বিতর্ক নিয়ে নতুন করে বলার কিছু।এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এই প্রসঙ্গে মমতাপন্থী বিধায়ক কুনাল ঘোষের মন্তব্য কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজনৈতিক বিরোধ বা মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু কারও ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট বা প্রেসক্রিপশন প্রকাশ্যে আনা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অনুচিত। তবে এই নিয়ে আবার মুখ খুলেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করবেন না। তিনি বলেন, “এক্স-রে প্লেট এবং এমআরআই রিপোর্ট যদি দেখাতে শুরু করি, তাহলে আর বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না উনি। বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে না বলুন। প্রয়োজন হলে আমি কোথা থেকে ওই কাগজ পেয়েছি সেটাও স্পষ্ট করে বলে দেব। যে কাগজ আমি দেখিয়েছি, সেটা পিজিতে (এসএসকেএম) ছিলই না, আর সেটা সেখানে থাকার কথাও নয়। উনি ভেবেছিলেন চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন, কিন্তু সেটা তো আর হয়নি।”
