বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

মেঘ কাটলেও জল বাড়ছে জেলায়, জলমগ্ন আসানসোলের একাধিক এলাকা !

18 August, 2026 2:32 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : সোমবার থেকে একটানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকা।

কোথাও হাঁটু সমান জল, আবার কোথাও বাড়ির দরজার সামনে পর্যন্ত উঠে এসেছে বৃষ্টির জল।শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা থাকলেও তা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তাঁদের দাবি, আগের সরকারের আমলে নিকাশি ব্যবস্থার যথাযথ উন্নয়ন না হওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি ও অপরিকল্পিত নির্মাণ বেড়ে যাওয়ার ফলেই বর্ষার সময় জল বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর জেরেই সামান্য টানা বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে জলযন্ত্রণা।জল জমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি যান চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও প্রভাব পড়েছে। বাড়িঘর ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জলমগ্ন হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শন করছেন সরকারি আধিকারিকরা। কীভাবে জমা জল দ্রুত সরানো যায় এবং নিকাশি ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান করা যায়, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সব মিলিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভুগছে এখন জল যন্ত্রণায়। শুধু আসানসোল নয় লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পুরো দক্ষিণবঙ্গ।

গভীর নিম্নচাপ বাংলা ছাড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের পথে। তার প্রভাবে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া পশ্চিমের জেলায় বেশি থাকবে, নিম্নচাপ অক্ষরেখা দক্ষিণ দিকে ঝুঁকে রয়েছে। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে।মৌসুমী অক্ষরেখা বাংলায় সক্রিয় থাকবে আগামী কয়েকদিন। ফিরোজপুর থেকে বিহারের পটনা হয়ে ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নিম্নচাপ এলাকার মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।এদিকে হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশে দু-জোড়া ঘূনাবর্ত।

তার প্রভাবে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা। উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। সমুদ্রপৃষ্ঠে ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইবে। এই কারণে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপকূলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।নিম্নচাপ ঝাড়খণ্ডের দিকে সরতেই দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব দিকের জেলায় আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পশ্চিমের ও উপকূলের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। ৬ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা।

বুধবার থেকে শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটা কমবে।মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা ৬ জেলায়। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা। বৃষ্টি হতে পারে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কলকাতা-সহ বাকি সব জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ের হলুদ সর্তকতা। বুধবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা। বিভিন্ন জেলার দু-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee