১৫৭তম জন্মবার্ষিকীতে রাজ্যে নানা কর্মসূচিতে স্মরণ করা হল মহাত্মাকে
সংবাদদাতা, কলকাতা: ২ অক্টোবর, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। ঐতিহাসিক এই দিনটিতে রাজ্যজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে গান্ধী জয়ন্তী। সত্য, অহিংসা ও দেশসেবার মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালেই কলকাতার মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে পৌঁছে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। গান্ধীজির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও আদর্শ আজ বিশ্বের দরবারে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। তাঁর প্রদর্শিত শান্তির পথই মানবসমাজকে সঠিক দিক নির্দেশ করতে পারে। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, গান্ধীজির আদর্শকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং পরিবেশিত হয় ভক্তিমূলক সঙ্গীত।
মেয়ো রোডের অনুষ্ঠান শেষের পরেই রাজ্যপাল পৌঁছান উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর গান্ধীঘাটে। হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক গান্ধীঘাটের গান্ধী স্মৃতিস্তম্ভে মাল্যদান করেন তিনি। এখানে আয়োজিত হয় বিশেষ প্রার্থনা সভা। বারাকপুরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং, তথ্যমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী এবং দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। সেখানে গান্ধীজির প্রিয় ভজন ‘রঘুপতি রাঘব রাজা রাম’ পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে কলকাতা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজ্যের স্কুল-কলেজ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পদযাত্রা, রক্তদান শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান (স্বচ্ছতা কর্মসূচি) এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রাজ্যজুড়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং গান্ধীজির পথ অনুসরণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে জাতির জনকের ১৫৭তম জন্মতিথি।
