মোদি-শুভেন্দুর নতুন বার্তা ও সেমিকন ইন্ডিয়ার সূচনা
সংবাদদাতা, কলকাতা: ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে রাজনৈতিক ও শিল্প—উভয় ক্ষেত্রেই এক নতুন বিকশিত ভারতের সূচনা দেখলো দেশ। একদিকে পশ্চিমবঙ্গে মোদির জন্মদিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে পালন করা হলো ‘অন্নপূর্ণা দিবস’। অন্যদিকে, দিল্লির দ্বারকায় ‘যশোভূমি’ কনভেনশন সেন্টারে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর শুভ সূচনা করে বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
বাংলায় মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষাকে পাখির চোখ করে আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলার নারীদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য পেশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ও জনকল্যাণমুখী নীতিগুলোর মূল মন্ত্রই হলো ‘কথা কম, কাজ বেশি’। শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাবিত বা প্রচারিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মতো জনকল্যাণমূলক চিন্তাভাবনা ও তার মাধ্যমে মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তার লক্ষ্যকে সাধুবাদ জানান তিনি। মোদি বলেন, জরুরি খরচ বা সংসারের ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর জন্য চিন্তা করতে না হলে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সাহায্য পেলে একজন মা তাঁর সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালাতে পারেন, কিংবা একজন বোন চিকিৎসার জরুরি জিনিস কিনতে পারেন। এই ভাবেই মহিলারা স্বনির্ভরতা পথে এগিয়ে যাবে বাংলা বলে মন্তব্য তাঁর। পাশাপাশি অতীতে বাংলায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাটমানি সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে বিজেপি পরিচালিত ব্যবস্থা এলে বাংলার প্রতিটি যোগ্য নারী কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা কাটমানি ছাড়াই এই ধরনের প্রকল্পের সুফল সরাসরি পাবেন। ‘নতুন বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি বলেন, মহিলাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দেওয়া এবং তাঁদের আত্মনির্ভর করে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী চিনের ওপর বিশ্বের খনিজ ও সেমিকন্ডাক্টর নির্ভরতার চ্যালেঞ্জটি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যাটারি এবং যুদ্ধাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের প্রায় ৯০ শতাংশই বর্তমানে বেজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্ব রাজনীতি ও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যের টানাপোড়েনে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার যে সংকট তৈরি হয়েছে, ভারত তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ২০২২ সালে শুরু হওয়া ‘সেমিকন ইন্ডিয়া’র ধারাবহিকতায় ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ভারতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কাছে ভারতের ওপর আস্থা বাড়ছে। সফলভাবে ব্রিকস সম্মেলন সম্পন্ন করার পর এই প্রযুক্তি সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এখন কেবল গবেষণায় আটকে নেই, আমরা বাণিজ্যিকভাবে চিপ উৎপাদন শুরু করেছি এবং ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ চিপ বিশ্বের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। একদিকে রাজ্যের নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার রাজনৈতিক অঙ্গীকার, অন্যদিকে বিশ্বের প্রযুক্তি মানচিত্রে চিনের বিকল্প হিসেবে ভারতকে তুলে ধরা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে এই দুই বার্তাই বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
