East Bengal: ডার্বির রেশ কাটতেই ধাক্কা, ইউনাইটেডের কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল
কলকাতা: ডার্বির রাতে যে দলকে দেখে আশার আলো জ্বলেছিল, কলকাতা লিগের সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচেই সেই আলো অনেকটাই ম্লান। মোহনবাগানের সিনিয়রদের আটকে দেওয়া লাল-হলুদের তরুণ দল শুক্রবার ঘরের মাঠে আর গোলের মুখ খুলতে পারল না। ইউনাইটেড স্পোর্টসের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ শেষ হল ০-০। ফলে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে প্রথম ধাপেই বড় ধাক্কা খেল অর্চিষ্মান বিশ্বাসের দল।

ইস্টবেঙ্গলের আত্মতুষ্টি
তিন পয়েন্টের তাগিদে শুরু থেকেই আক্রমণের চেষ্টা করেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ডার্বির সেই ঝাঁঝ এদিন কোথাও যেন মিলল না। মাঝমাঠে চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাঝি ও বিক্রম প্রধান না থাকায় আক্রমণ গড়ার ছন্দটাই বারবার কেটে যাচ্ছিল। ডার্বিতে নজর কেড়ে নেওয়া বিলাল প্রথম একাদশে থাকলেও তাঁকে ঘিরে ইউনাইটেডের রক্ষণ যে পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিল, তা বেশির ভাগ সময়ই সফল। অনন্থু এবং আকাশ হেমব্রমও ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে পারেননি।
ভারী মাঠে সমস্যা
বৃষ্টির জেরে ভারী মাঠ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। দ্রুত পাস, জায়গা বদল কিংবা বল নিয়ে গতি বাড়ানো—কোনওটাই স্বাভাবিক ছন্দে করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। তার মধ্যেও সুযোগ এসেছিল। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে বিলালের শট গোলের দিকে যাচ্ছিল নিশ্চিতভাবেই। কিন্তু ইউনাইটেডের শেষ প্রহরী সৌরভ সামন্ত অসাধারণ দক্ষতায় বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে সেটি আটকে দেন। ওই সেভের পরও ইস্টবেঙ্গলের সামনে সুযোগ এসেছিল, কিন্তু গোলের দরজা আর খোলেনি।
সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের সন্ধানে সেটপিসকে অস্ত্র করেছিল লাল-হলুদ। বক্সের আশপাশ থেকে বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু সুমন, অঙ্কনরা শেষ কাজটা করতে পারেননি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইউনাইটেডের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, ইস্টবেঙ্গলের অস্থিরতাও বাড়তে থাকে। শেষ বাঁশিতে তাই স্কোরবোর্ডে থেকে যায় সেই ০-০।
আরও পড়ুন: Kolkata Derby: বড় নামের দর্পচূর্ণ! তারকাসমৃদ্ধ মোহনবাগানকে আটকে ইতিহাস ইস্টবেঙ্গলের জুনিয়রদের
আরও পড়ুন: East Bengal: এফিয়ংয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধতে ইস্টবেঙ্গলে দ্রোগবার দেশের লোবা
অ্যাডভান্টেজ মোহনবাগান ও মহামেডান
এই একটি ড্র-ই সুপার সিক্সের হিসাবটা ইস্টবেঙ্গলের জন্য কঠিন করে দিল। অন্য দিকে একই দিনে ভবানীপুরকে ২-০ হারিয়ে মহামেডান তুলে নিয়েছে পূর্ণ তিন পয়েন্ট। ফারদিন আলি মোল্লা ও ইসরাফিল দেওয়ান গোল করেছেন। তার আগে মোহনবাগানও নিজেদের ম্যাচে ৫-১ জিতে দৌড়ে এগিয়ে ছিল। ফলে তিন পয়েন্ট করে নিয়ে গোলপার্থক্যে মোহনবাগান প্রথম, মহামেডান দ্বিতীয়। এক পয়েন্ট নিয়ে ইস্টবেঙ্গল তৃতীয়।
অর্চিষ্মানের স্বীকারোক্তি
ডার্বির পর দলের মধ্যে আত্মতুষ্টি এসেছিল কি না, ম্যাচ শেষে সেই প্রশ্ন এড়ালেন না অর্চিষ্মান। ইস্টবেঙ্গল কোচ স্বীকার করেছেন, ডার্বির সাফল্যের পর ছেলেদের মধ্যে কিছুটা আত্মতুষ্টি ঢুকে পড়েছিল। তবে তাঁর মতে, এখনও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। সামনে রয়েছে আরও দু’টি ম্যাচ।
ইস্টবেঙ্গলের নজরে গোলপার্থক্য
কিন্তু সেই দুই ম্যাচে হিসাবটা কঠিন। শুধু জয় নয়, গোলপার্থক্যও বাড়াতে হবে লাল-হলুদকে। কারণ ডার্বিতে বড় চমক দেওয়ার পর সুপার সিক্সের প্রথম পরীক্ষাতেই ইস্টবেঙ্গল বুঝে গেল—খেতাবের দৌড়ে প্রতিটি পয়েন্টের দাম কতটা।
