বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

Duleep Trophy Final: ১৩ বছর পর দলীপের ট্রফি পূর্বাঞ্চলের, ঈশানের ব্যাটে লেখা হল জয়ের গল্প

11 September, 2026 2:12 AM Arko Banerjee
শেয়ার করুন

চেন্নাই: চেন্নাইয়ের গরমে প্রথম দু’দিনেই ম্যাচের ছবিটা এঁকে দিয়েছিল পূর্বাঞ্চল। বাকি তিন দিন ছিল সেই ছবিতে শেষ আঁচড় দেওয়ার অপেক্ষা। পঞ্চম দিনেও দক্ষিণাঞ্চলের সামনে কোনও অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের রাস্তা খুলল না। বরং ঈশান কিষাণের দল আরও একবার বুঝিয়ে দিল, দলীপ ট্রফি ২০২৬ ফাইনালে তারাই ছিল একমাত্র নিয়ন্ত্রক। ম্যাচ ড্র হল ঠিকই, কিন্তু প্রথম ইনিংসের ৩৭২ রানের লিডে ১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি ফিরল পূর্বাঞ্চলের ঘরে।

দলীপ ট্রফি ২০২৬ ফাইনালে নিয়ন্ত্রক পূর্বাঞ্চল

দলীপ ট্রফি ২০২৬-এ শেষ দিনের শুরুতে পূর্বাঞ্চলের লিড ছিল ৫৮৪ রান। দক্ষিণাঞ্চলের পক্ষে সেখান থেকে ম্যাচ বাঁচানোই ছিল কঠিন, জয়ের কথা তো দূরের। তাই ঈশানের দলও অযথা ঝুঁকি নেয়নি। কুমার কুশাগ্র ৪৬ রানে ফিরলেও মহম্মদ কওনাইন কুরেশি এবং অনুকূল রায় মিলে ম্যাচটাকে কার্যত প্রদর্শনীতে পরিণত করেন। দু’জনের জুটিতে আসে ১৫০ রান। অনুকূল থামেন ৬৪-তে, কুরেশি অপরাজিত থাকেন ১১৬ রানে। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পূর্বাঞ্চল।

আরও পড়ুন: Duleep Trophy: দলীপ ট্রফির ফাইনালে বড় ব্যবধানে এগিয়ে পূর্বাঞ্চল

আরও পড়ুন: Duleep Trophy: ব্যাটে পাহাড়, বলে আগুন—শামি-মুকেশে জয়ের দরজায় পূর্বাঞ্চল

তারপরও দক্ষিণাঞ্চলকে ব্যাট করতে নামানোর মতো সময় ছিল। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ফল নিয়ে আর কোনও সংশয় নেই। চা-বিরতির কিছুটা আগে ঈশান খেলা শেষ করার প্রস্তাব দেন। তিলক বর্মাও তাতে সম্মতি জানান। দুই দলের ক্রিকেটারেরা হাত মেলান। আনুষ্ঠানিক ভাবে ফাইনাল শেষ হয় ড্র-তে, কিন্তু ট্রফি তখন পূর্বাঞ্চলের।

দলীপ ট্রফি ২০২৬ ফাইনালের উচ্ছ্বাস

উল্লাসের ছবিটাও ছিল আলাদা। বৈভব সূর্যবংশীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নাচলেন ঈশান। সতীর্থরা মিলে তৈরি করলেন হাডল। ১৫ বছরের বৈভব থেকে ৩৬ বছরের মহম্মদ শামি—একই ছবিতে ধরা পড়ল পূর্বাঞ্চলের প্রজন্মের মেলবন্ধন। আর সেই ছবির মধ্যেই ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ হওয়ার আনন্দ।

এই ট্রফির ভিত অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক ঈশান নিজেই। প্রথম ইনিংসে ৩৩৪ বলে ২৭০ রান। ৩০টি চার, সাতটি ছক্কা। প্রায় দু’দিন ধরে ব্যাট করে দক্ষিণাঞ্চলের বোলিং আক্রমণকে ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে কুমার কুশাগ্রর ১০১, শিখর মোহনের ৮৫ এবং অভিমন্যু ঈশ্বরণের ৭২। ৭০৮ রানে থামে পূর্বাঞ্চলের প্রথম ইনিংস—দলীপ ট্রফির ফাইনালে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস।

অধিনায়ক ঈশান

জবাব দিতে নেমে ৩৩৬ রানেই শেষ দক্ষিণাঞ্চল। অধিনায়ক তিলক বর্মা এক রানের জন্য শতরান হাতছাড়া করেন। দেবদত্ত পডিক্কল করেন ৬২। কিন্তু বাকিরা পূর্বাঞ্চলের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। মুকেশ কুমার নেন তিন উইকেট, শামি নেন দুই। ৩৭২ রানের লিড সেখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ঈশানদের হাতে তুলে দেয়।

চতুর্থ দিন সেই নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেন ঈশান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৮ বলে ৮০ রান করে ফেরেন তিনি। শতরান হলে ফাইনালে মোট ৩৫০ রান করার বিরল নজির গড়তেন। তা হয়নি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তাঁর কাজ প্রায় তখনই শেষ। শিখর মোহন করেন ৫২। শেষ দিনে কুরেশির ব্যাট সেই কাজটা সম্পূর্ণ করে দেয়।

আর এই ফাইনালটি শামির কাছেও ছিল বিশেষ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০০তম ম্যাচে নামার আগে তাঁকে সম্মানিত করেছিল সিএবি। ম্যাচ শেষে সেই মাইলফলকের স্মৃতিতে যোগ হল দলীপ ট্রফি। ফাইনালে দুই উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার মূল্যও বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলার পেসার।

১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়ন

ফাইনালের আগে ঈশান বলেছিলেন, শামির খিদে এখনও একই রকম। মাঠে সেটাই দেখা গেল। অন্য প্রান্তে ছিল ১৫ বছরের বৈভব, মাঝখানে অধিনায়ক ঈশান, আর বল হাতে শামি। পূর্বাঞ্চলের এই জয় তাই শুধু একটি ট্রফি ফেরার গল্প নয়। পুরনো অভিজ্ঞতা, নতুন প্রতিভা আর এক অধিনায়কের দুরন্ত ব্যাটিং—সব মিলিয়েই তৈরি হল ১৩ বছর পরের চ্যাম্পিয়ন দল।

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পূর্বাঞ্চলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ফাইনালের আগে তাঁর পরামর্শ পেয়েছিল দল। শেষ হাসিটা হাসলেন ঈশানরা। ১৩ বছর পর দলীপ ট্রফি ফিরল পূর্বাঞ্চলে—আর ট্রফির গায়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি নিঃসন্দেহে ঈশান কিষাণের।

প্রতিবেদন

Arko Banerjee