বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

উত্তরকন্যায় চার ঘণ্টার মেগা বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা

08 September, 2026 8:12 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: পাহাড়ের খামখেয়ালি আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কালিম্পংয়ে অবতরণ করতে পারল না রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চপার। মাঝ আকাশ থেকেই চপার ঘুরিয়ে শিলিগুড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। কালিম্পং সফর বাতিল হলেও উত্তরবঙ্গে নিজের প্রশাসনিক সূচি বাতিল করেননি শুভেন্দু। শিলিগুড়ির উত্তারকন্যায় বসে টানা চারঘণ্টা উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে  পর্যালোচনা বৈঠক করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, রেল, বিমানবন্দর, সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফের ভূমিকা এবং পাহাড়ের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পায়।
মঙ্গলবার একদিনের ঝটিকা সফরে উত্তরবঙ্গে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকেই চপারে করে কালিম্পংয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কালিম্পংয়ের আকাশে পৌঁছানোর পরেই তৈরি হয় ঘন মেঘ ও প্রতিকূল আবহাওয়া। চপার অবতরণের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় বেশ কিছুক্ষণ কালিম্পংয়ের আকাশে চক্কর কাটে সেটি। পরবর্তীতে সুরক্ষার স্বার্থে পাইলট চপারটি ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং শিলিগুড়ির দিকে ফিরে আসেন। উত্তরকন্যার পাশে অবস্থিত ভিডিওকন গ্রাউন্ডে চপারটি জরুরি অবতরণ করে। সেখান থেকে সড়কপথে উত্তরকন্যায় পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। কালিম্পংয়ে পৌঁছাতে না পারায় নিজের অনুশোচনা ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে পাহাড়বাসীকে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, খুব দ্রুত পরিস্থিতি অনুকূল হলে তিনি আবারও পাহাড় সফরে যাবেন।
উত্তরকন্য়ায় দীর্ঘ চারঘণ্টার মেগা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর দুটো থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত চলে এই প্রশাসনিক বৈঠক। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন রাজ্য সরকারের প্রায় সমস্ত দপ্তরের প্রধানরা । এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রেল, বাগডোগরা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর আগের প্রশাসনিক বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট নেন মুখ্যমন্ত্রী। যেসব কাজ আটকে রয়েছে, সেগুলি দ্রুত নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দেন।

এই বৈঠকে প্রধান গুরুত্ব পায় উত্তরবঙ্গের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি। বিশেষ করে মালদহের ভুতনি এলাকার প্লাবন পরিস্থিতি নিয়ে জেলাশাসকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখানকার ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের খোঁজ নেন। উত্তরবঙ্গের যে কোনও জেলায় আচমকা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফকে সব সময় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালিম্পং পৌঁছাতে না পারলেও পাহাড়ের উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা করা হয়েছে এই বৈঠক থেকে। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পাহাড়ের পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার বিশেষ কাজের ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে জাতীয় জলবিদ্যুৎ কর্পোরেশন বা এনএইচপিসি-র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। এর ফলে পাহাড়ের ধসপ্রবণ এলাকা ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলির সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রেল, বিমানবন্দর এবং বিএসএফের জমি সংক্রান্ত বেশ কিছু জটিলতা এবং নির্মাণকাজ আটকে থাকা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য ও কেন্দ্রের আধিকারিকদের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধানসূত্র বের করার নির্দেশ দেন, যাতে জনস্বার্থের কাজ জমি জটে আটকে না থাকে।
উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলস বদলে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে বৈঠকে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালকে ঢেলে সাজার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, কোচবিহার ও মালদা জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও পরিষেবা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তাঁদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে সাধারণ প্রশাসনিক কাজের জন্য বারবার কলকাতায় ছুটতে না হয়, শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা থেকেই যাতে সব দপ্তরের কাজ পরিচালিত হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে ভিডিওকন গ্রাউন্ড থেকে চপারে করে বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু সেই সময় ভিডিওকন গ্রাউন্ড চত্বরে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও ভিড় তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি না নিয়ে সড়কপথেই বাগডোগরা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরবর্তীতে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে রাতের বিমানে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik