হঠাৎ-ই রেশন দোকানে খাদ্যমন্ত্রী, বাঁকুড়ায় পরিষেবা যাচাই করলেন কীর্তনিয়া
বাঁকুড়া : রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে খাদ্যশস্য পাচ্ছেন কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বাঁকুড়ার একটি রেশন দোকানে আচমকা পরিদর্শনে গেলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মন্ত্রীর এই সারপ্রাইজ ভিজিটকে ঘিরে রেশন দোকান চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পরিদর্শনের সময় তিনি রেশন পরিষেবা, খাদ্যশস্য বণ্টন এবং উপভোক্তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সরকারের লক্ষ্য যে রেশনিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা, পরিদর্শনের পর সেই বার্তাই দেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত খাদ্যশস্য সঠিক পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু দফতরের রিপোর্টের উপর নির্ভর না করে বাস্তবে পরিস্থিতি কেমন, তা জানতেই এই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।রেশন দোকানে উপস্থিত উপভোক্তাদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁদের কাছ থেকে রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, সময়মতো খাদ্যশস্য মিলছে কি না এবং দোকানের পরিষেবা নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
বিশেষ করে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন মন্ত্রী।আদিবাসী উপভোক্তাদের সঙ্গে আলোচনায় রেশন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে রেশন পরিষেবার গুরুত্ব, খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না এবং সরকারি পরিষেবা পেতে তাঁদের কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেন।
খাদ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনে রেশন দোকানের পরিষেবা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে রেশনিং ব্যবস্থায় কোনও অনিয়ম বা সমস্যা থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, সরকারের মূল উদ্দেশ্য হল রেশনিং ব্যবস্থার সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
