নেপালে নিখোঁজ বাংলার মানুষের পাশে সরকার, চালু হেল্পলাইন
নিজস্ব প্রতিনিধি: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও।
কৈলাস–মানসসরোবর যাত্রায় যাওয়া কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকার ৩২ জনের একটি দল নেপাল–তিব্বত সীমান্তের আকস্মিক বিপর্যয়ের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও হুগলির আরামবাগ ও চন্দননগর এবং উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বহু পর্যটক নেপালের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে রয়েছেন বলে খবর। জানা গেছে কলকাতার দলটি ২২ আগস্ট নেপাল পৌঁছেছিল। তিব্বতের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই দলটি মঙ্গলবার রাতে রসুয়া পৌঁছেছিল।
কিন্তু বুধবার সকালে হড়পা বান হানা দেওয়ার পর থেকেই দলের কারোর সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাজ্যের বাসিন্দাদের খোঁজ পেতে চেষ্টা শুরু করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নেপালে নিখোঁজ ও আটকে পড়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের সবরকম সাহায্য দিতে সরকার প্রস্তুত। কাঠমাণ্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সবসময়ই যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নেপালের বিপর্যয়ে এ রাজ্যের যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সহযোগিতার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনে একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।
দুর্যোগকবলিত মানুষ বা তাঁর পরিবারের সদস্যেরা রাজ্য সরকারের দু’টি হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন— ০৩৩-২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১। দুর্যোগ কবলিত এবং তাঁদের পরিবারের সহায়তার জন্য হেল্পলাইন চালু করেছে কলকাতা পুলিশও। কোনও তথ্য জানার জন্য বা সাহায্যের জন্য ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
হোয়াট্সঅ্যাপে যোগাযোগ করা যাবে ৯৮৭৪৯০২৮৮০ নম্বরে। ডিজি কন্ট্রোলের নম্বর— ৯১৭৪৮৯০১৪৫। ভবানীভবনের কন্ট্রোলরুমের নম্বর— ০৩৩-২৪৭৯৪০৪৪ এবং ৯১৪৭৮৯০১৪৬। এছাড়াও, নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে হেল্পলাইন। টোল ফ্রি ইমার্জেন্সি নম্বর ১২৩৪। হটলাইন নম্বর ১১৪৪। এছাড়াও যোগাযোগ করা যাবে ৯৮৫১২৮৯৪৪৫। নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও চালু করেছে হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং + ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০
তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় হড়পা বানের জেরে বুধবার উত্তর–মধ্য নেপালের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বানের জলের তোড়ে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি। ভেঙে যায় সেতু। এই বিপর্যয় মনে করিয়ে দিয়েছে ২৮ বছর আগের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা। ১৯৯৮ সালের অগস্টে উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের মলপা গ্রামে ধস নেমেছিল। বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২১ জন। তাঁদের মধ্যে ৬০ পুণ্যার্থীও ছিলেন। তাঁরাও যাচ্ছিলেন কৈলাস–মানস সরোবরে। মাটি এবং পাথরের স্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করতে লেগে গিয়েছিল বেশ কয়েক দিন। এ বার নেপালে ভোটেকোশী নদীর এই হড়পা বান এবং তার পরবর্তী বিপর্যয় ফিরিয়ে আনছে আড়াই দশক আগের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি।
