বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাঁধ নির্মাণ: বিদ্রোহের আগুন অরুণাচলের সিয়াং উপত্যকায়

সংবাদদাতা: চীন সীমান্তের কাছে অরুণাচল প্রদেশ ফের অগ্নিগর্ভ। সিয়াং উপত্যকায় ১১,২০০ মেগাওয়াটের সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্পের সমীক্ষা ও ড্রিলিংয়ের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সে জন্য বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন হতেই আগুন জ্বলছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। স্থানীয় আদি জনজাতি এবং বিভিন্ন সংগঠনের আশঙ্কা, এই মেগা বাঁধ হলে উপত্যকার প্রায় ২৭টি গ্রাম জলমগ্ন হতে পারে। তাই হাজার হাজার মানুষের ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সিআইএসএফ ও পুলিশ বাহিনী এলাকায় ঢোকার পর থেকেই স্থানীয় আদিবাসী জনজাতির প্রতিবাদ চরমে উঠেছে। পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশ বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন ২০১৪-এর অধীনে চারজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। গেকু সহ আপার সিয়াংয়ের একাধিক অঞ্চলে আপার সিয়াং ইন্ডিজিনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখা সরকারি জনশুনানি ও বৈঠক বয়কটের ডাক দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর সফরের সময় পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা এক স্থানীয় বিধায়কের বাড়িতে হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গত ৪ অক্টোবর পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে। সেখানে পুলিশের বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও নদীবাঁধের গুরুত্ব বোঝাতে গত ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু আদি জনজাতির নেতৃত্বকে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা মুখোমুখি বসে কথা বললে সমস্ত প্রযুক্তিগত বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের আলোচনা করে সামনের দিকে এগোতে হবে। তবে পুলিশের বল প্রয়োগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে গেছে। দফায় দফায় চলা প্রতিবাদ বিক্ষোভে আহত বহু সাধারণ মানুষ।
