ঠাকুর কেনা, নাড়ু বানানো, আলপনা দেওয়া— বাংলার ঘরে ঘরে চলছে লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি

সংবাদদাতা, কলকাতা: উমা কৈলাসে ফিরে গিয়েছেন। দশমীর বিষাদের রেশ কাটতে না কাটতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় লক্ষ্মীর আরাধনার প্রস্তুতি। বাজার থেকে নতুন প্রতিমা আনা, নারকেল নাড়ু বানানো আর উঠোনে আলপনা দেওয়ার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।
দুর্গাপুজো যেমন এখন কলকাতা সহ বহু জায়গায় থিমভিত্তিক হয়ে গেছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই মহা ধুমধাম করে পালিত হয় থিমের লক্ষ্মীপুজো। আর সেই জায়গার লক্ষ্মীপুজোর এতই খ্যাতি যে পুরো গ্রামটাই পরিচিত হয়ে গেছে লোকমুখে ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ নামে। বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মতো একই আড়ম্বরে বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো আয়োজিত হয় এই গ্রামে। এই গ্রামের নাম খালনা। হাওড়া জেলার জয়পুরের এই গ্রামে দুর্গাপুজোর মতই মহা ধুমধাম করে পালিত হয় থিমের লক্ষ্মীপুজো। বারোয়ারি দুর্গাপুজোর মতোই একই আড়ম্বরে বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো আয়োজিত হয় এই গ্রামে। এই গ্রামের নাম খালনা। হাওড়া জেলার জয়পুরের এই গ্রামের লক্ষ্মীপুজোর খ্যাতি হাওড়া জেলা ছাড়িয়ে আশেপাশে মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি, নদীয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। খালনার লক্ষ্মীপুজো চলে তিনদিন ধরে। লক্ষ্মীপুজোই যেন এখানে দুর্গাপুজোর আনন্দ এনে দেয়। বিজয়া দশমী শেষ হলেই এই গ্রামে শুরু হয়ে যায় লক্ষ্মীপুজোর তোড়জোড়। বলা হয় প্রায় তিনশো বছর ধরে এই গ্রামে ঐতিহ্যমণ্ডিত এই লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে।
হাওড়ার পাশাপাশি জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। কলকাতার প্রতিটি বাজারে শনিবার ছিল ক্রেতাদের ভিড়। কুমোরটুলিতেও প্রতিমা কেনার ভিড় নজরে পড়েছে। একইভাবে মল্লিকঘাটের ফুলবাজারেও ছিল চরম ব্যস্ততা।
পাশাপাশি কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আনন্দের জোয়ারে ভাসছে মালদহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত। ব্যতিক্রম নয় হবিবপুর ব্লকের বিখ্যাত আইহো বাজারও। পুজোর ঠিক আগের দিন সকালে এই বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল সাধারণ ক্রেতাদের। প্রতিমা থেকে শুরু করে পুজোর প্রয়োজনীয় সমস্ত সামগ্রী কিনতে সকাল থেকেই ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠেছে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই পক্ষ থেকেই।
এদিন আইহো বাজারের বিভিন্ন দোকানে ছোট থেকে শুরু করে বড় আকারের নান্দনিক লক্ষ্মী প্রতিমা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় মৃৎশিল্পীদের। নিজেদের সাধ্যমতো ও পছন্দসই প্রতিমা ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য দোকানে দোকানে ভিড় জমান ক্রেতারা। প্রতিমা বিক্রেতাদের পাশাপাশি সমান ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে ফলমূল, মিষ্টি, ফুল এবং পুজোসামগ্রীর দোকানগুলিতেও। নারকেল, মুরমুরা, কদমা থেকে শুরু করে নানা পদের ফল ও পুজোর ডালির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বাঙালি সংস্কৃতিতে লক্ষ্মীপুজো নিছক কোনও ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি আবহমানকালের ঐতিহ্য ও আবেগের এক মেলবন্ধন। সংসারের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় প্রতি বছর ঘরে ঘরে নিষ্ঠার সঙ্গে আরাধনা করা হয় মা লক্ষ্মীর। আর সেই আরাধনার প্রস্তুতিপর্বেই উৎসবমুখর ত হয়ে উঠেছে আইহো বাজারের সামগ্রিক চিত্র।
