বড়মা সবার, মন্দিরে ও পুজোয় আর ভিআইপি সংস্কৃতি নয়, কড়া বার্তা অর্জুন সিংয়ের

সংবাদদাতা, নৈহাটি: কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় প্রতিবছরের মতো হয়ে গেল নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজোর খুঁটিপুজো। বড়মার কাছে ভিআইপি কালচার আর থাকবে না। ভিআইপি সংস্কৃতির বিরোধিতা করে খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান থেকে এমনই বার্তা পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের। এদিন অনুষ্ঠানে গিয়ে অর্জুন সিং জানিয়েছেন, তিনিও ব্যারিকেডের বাইরে দাঁড়িয়েই পুজো দেখেছেন। তাঁর মতে, “মায়ের কাছে কেউ ভিআইপি নয়। মায়ের কাছে সবাই ভক্ত। সবারই যাওয়া উচিত।” পুজোর আয়োজনে পুরোহিত ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।
তৃণমূল আমলে বড়মার মন্দির আর ভিআইপি কালচার সমার্থক হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ ভক্তদের আগেই সুযোগ পেয়ে যেতেন রাজনৈতিক নেতা, সেলিব্রিটিরা। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে এবার বার্তা অর্জুন সিংয়ের। তিনি এদিনই জানিয়ে দেন, ভিআইপি কালচারের প্রয়োজন নেই। মায়ের কাছে সবাই সমান, কেউ ভিআইপি নন। রবিবার খুঁটিপুজোর সময় ছিলেন ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তাপস ঘোষ ও মন্দির কমিটির অন্য সদস্যরা। খুঁটিপুজোর সময় উপস্থিত থাকলেও পুজোয় অংশগ্রহণ করেননি মন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, ব্যারিকেডের বাইরে দাঁড়িয়ে পুজো দেখেছেন তিনি। বিজেপি কোনও ভিআইপি কালচার মানে না। মায়ের কাছে সবাই সমান। সকলেরই সমান সুযোগ পাওয়া উচিত।
বড়মার দর্শনে এই পুজো ঘিরে বিপুল জনসমাগম হয় প্রত্যেক বছর। শনিবারই বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট মন্দির ও পুজোর এলাকা পরিদর্শন করেন। ভিড় সামলানো এবং নির্বিঘ্নে বিসর্জন নিয়েও বার্তা দেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার দিকে নজর রাখবে প্রশাসন। বিশেষ করে বিশালাকার প্রতিমা বিসর্জনের সময় যাতে সমস্যা না ঘটে, সে জন্য ঘাটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি। অর্জুনের দাবি, বিসর্জনের ঘাটের উন্নয়নে পরিবহণ দপ্তরের তরফে প্রায় ৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থার উপর জোর দিতে গিয়ে কলকাতার চোরবাগানের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও টানেন মন্ত্রী। তাঁর কথায়, “দুর্ঘটনা কেউ রুখতে পারে না। কিন্তু আমরা আগে থেকে ব্যবস্থা নেব, এটা নিশ্চিত।” অন্যদিকে, বড়মার দর্শনে অরবিন্দ রোডে ভিড়ের চাপ নিয়ে তাঁর দাবি, আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে। আগে ওই রাস্তায় ঢোকাই কঠিন ছিল, এখন মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে।
